প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 24, 2026 ইং
"লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু" -প্রতারণার শিকার হয়ে ব্যবসায়ীর উপলব্ধি

সাইফুল ইসলাম সানি
টাঙ্গাইলের সখীপুরে অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছেন সুলাইমান তালুকদার (৪০) নামের এক ব্যবসায়ী। আজ শুক্রবার সকালে তিনি কম দামে ডিজেল পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা খুইয়েছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে ওই ব্যবসায়ী নিজের উপলব্ধি থেকেই বলে উঠেন- "লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু"। ব্যবসায়ী সুলাইমান সখীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মার্কেটের ডিজেলের খুচরা ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ী সুলাইমান ঘটনার বর্ণনায় জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আমার দোকানে দুইজন লোক এসে জানায়, "আমাদের কোম্পানির কিছু ডিজেল বোয়ালী এলাকার সখীপুর ফিলিং স্টেশনে আটকে আছে। পাম্প থেকে নগদ টাকা ফেরত দিচ্ছে না, তবে টাকার সমপরিমাণ ডিজেল দিতে চায়। কিন্তু আমরা তো আর ডিজেল খুচরা বিক্রি করি না, আপনি যদি কিনেন তাহলে চার ড্রাম ডিজেল এনে দিতে পারবো।"
কথোপকথনের একপর্যায়ে সুলাইমান ডিজেলের দাম জানতে চান। সুলাইমান বলেন, সাধারণত আমি এক ড্রাম ডিজেল ২৯ হাজারে ক্রয় করি। এ সময় ওই দুই প্রতারক আমাকে ডিসকাউন্টে মূল্যে প্রতি ড্রাম ২৪ হাজার টাকা করে চার ড্রাম তেল দিবে বলে জানায়।
ঘটনার বর্ণনায় সুলায়মান আরও বলেন, তাদের কথা অনুযায়ী আজ শুক্রবার সকালে একটি ভ্যানগাড়ি নিয়ে ওই ফিলিং স্টেশনের দিকে যাই। বোয়ালী বাজারে সেই লোকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। এ সময় ওই প্রতারক সুলাইমানকে জানায়, পাম্পে তেল ভরতেছে, তেল ভরা শেষ হোক তারপর আমরা একসঙ্গে পাম্পে যাবো। আপনি টাকাটা এখানেই আমাকে দিয়ে দেন।
ব্যবসায়িক সুলাইমান সরল বিশ্বাসে দুই ড্রামের অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা ওই প্রতারকের হাতে দেন। টাকা পেয়ে সে মোটরসাইকেল নিয়ে ফিলিং স্টেশনের কাছে গিয়ে ব্যবসায়ী সুলাইমানকে বলেন, আপনি পাম্পের পাশের দোকানটায় দাঁড়ান, আমি ক্যাশিয়ারের কাছ থেকে ভাউচার নিয়ে আসছি। -এ কথা বলেই ওই প্রতারক মুহূর্তের মধ্যে সটকে পড়েন।
ব্যবসায়ী সুলাইমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, তখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে! বুঝতে পারি যে, আমি এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের শিকার হয়েছি। লোকটা টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এ সময় আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, আজ আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, কিন্তু আর কোনো ভাই বা ব্যবসায়ী এভাবে কম দামের লোভে পড়ে প্রতারিত হবেন না। কোনো অপরিচিত মানুষের কথায় বিশ্বাস করে আগে টাকা লেনদেন করবেন না। সুলাইমান জানান এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে সখীপুর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি একেবারেই ওই ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত। এখানে আমাদের ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ওই প্রতারক হেলমেট পরিহিত থাকায় তাকে সিসিটিভিতেও শনাক্ত করা যাচ্ছে না। লোভে না পড়ে ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহব্বানও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com